ঢাকাই শাড়ি হল বাংলাদেশের ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে উৎপাদিত এক বিশেষ ধরনের শাড়ি।সেই প্রাচীন কাল থেকেই নারীদের মনে ঢাকাই শড়ি এক বিশেষ মর্যাদা পেয়ে এসেছ। এর গুনগত মান এবং নান্দনিক বৈশিষ্টের জন্য এখন এটি শুধু ঢাকা ও ভারতবর্ষে নয়, সারা পৃথিবীব্যাপি শাড়ি প্রেমী দের কাছে সমাদৃত।

ইতিহাস ও ঐতিহ্যঃ(History and Heritage)

শাড়ি বাঙ্গলার নারীর অহংকার। সেই আদি কাল থেকে বাঙ্গলার নারীরা শাড়ি পরে আসছে। ঢাকাই শাড়ির কথা বলতে গেলে আসে মসলিন ও জামদানি। বলা হয়ে থাকে যে, মসলিন এতই সূক্ষ ছিল যে, সত্তর হাতের একটি মসলিন শাড়ি কয়েক ভাজ করে আংটির ভিতর দিয়ে বের করে আনা যেত। কিন্তু, ইংরেজ শাসনামলে, বিলিতী শাড়ির এক মাত্র প্রতিদ্বন্দী ছিল মসলিন শাড়ি। তাই ইংরেজরা মসলিন শাড়ির উপরে ৭০-৮০% এর মত কর বসায় এবং আমদানীকৃত কাপরে ৩-৪%। এর পরো, মস্লিন শাড়ির উৎপাদন বন্ধ না করতে পেরে তারা মসলিন কারিগরদের হাতের আঙ্গুল কেটে ফেলে। আগে প্রায় ২৮ রকমের মসলিন তৈরি হত। এখন, মিরপুরের জামদানীই মসলিনের একমাত্র উত্তরসূরি।

ঢাকাই শাড়ির প্রকারঃ(Kind of Dhakai Saree)

ঢাকাই শাড়ি বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। এর মধ্যে বহুল প্রচলিত শাড়ি হচ্ছেঃ

মসলিনঃ (Muslin)

সম্পূর্ন হাতে বোনা হয় মসলিন শাড়ি।কর্পাস তুলা থেকে উৎপন্ন এক বিশেষ রকমের সুতা দিয়ে বোনা হয় এই মসলিন। একটা মসলিন শাড়ি তৈরি করতে, তাঁতিদের ৭ দিন থেকে ২ মাস পর্যন্ত সময় লাগে। যাই হোক, পলাশীর যুদ্ধেপরবর্তি সময়ে মসলিন বিলুপ্ত হতে শুরু করে। বাংলাদেশ সরকার, মসলিন এর পুরোনো ঐতিহ্য ফিরে পেতে নতুন প্রজেক্ট হাতে নিয়েছে।

 

জামদানীঃ(Jamdani)

জামাদানী এক প্রকারের মসলিন। এটিও হাতে বোনা এক প্রকারের শাড়ি। প্রথমে তাঁতিরা কাপর বোনে, এবং পরপরই এতে মোটা সুতা দিয়ে নকশা করে।এভাবেই পুরো শাড়ি টি শেষ করা হয়।জামদানী সুতি ও হাফ-সিল্ক উভয় প্রকারেই পাওয়া যায়।

(Tat saree) তাঁতের শাড়িঃ নাম থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, এটি ও হাতে বোনা শাড়ি। সুতি এই শাড়ি গুলো পরতে খুবই আরাম দায়ক ও মোলায়েম। তাঁতের শাড়ির মধ্যে টাঙ্গাইল, ঢাকার সবচেয়ে বড় অঞ্চল, এর তাঁতের শাড়ি বেশি জনপ্রিয়।

তাঁতের শাড়িঃ (Tat saree)

নাম থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, এটি ও হাতে বোনা শাড়ি। সুতি এই শাড়ি গুলো পরতে খুবই আরাম দায়ক ও মোলায়েম। তাঁতের শাড়ির মধ্যে টাঙ্গাইল, ঢাকার সবচেয়ে বড় অঞ্চল, এর তাঁতের শাড়ি বেশি জনপ্রিয়।

কোটা শাড়িঃ (Kota saree)

হালকা বুননের কোটা শাড়িও খুবই জনপ্রিয়। কোটা শাড়ি সুতি ও হাফ সিল্ক উভয়েই পাওয়া যায়।

চিত্রঃ হাফ-সিল্ক

কোথায় পাব? (Where to find?)

প্রযুক্তির বিকাশের সাথে সাথে শিল্প ও বাণিজ্যেও প্রসার ঘটেছে। তাই বাংলাদেশের ঢাকাই শাড়ি আজ শুধু বাংলাদেশে নয় পৃথিবীর যেকোন প্রান্তেই পাওয়া যায়।হাতেম তাই অনলাইন শপে পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন রকমের ঢাকাই শাড়ি। হরেক রকমের জামদানি, মসলিন বা তাতের শাড়ির এক অপূর্ব সম্ভার এই হাতেম তাই।